কমলনগরে মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগের সরেজমিনে মিলেনি সত্যতা

Advertisement

নিজস্ব প্রতিবেদক:‎লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে আবদুল মজিদ নামে এক ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে একটি জামে মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে সম্প্রতি কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়। জন্ম নিয়েছে তিব্র সমালোচনা । তবে সরেজমিন অনুসন্ধানে ওই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।

‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চরমার্টিন ইউনিয়নের মেঘনা নদীতীরবর্তী বাতিরখাল মাছঘাট জামে মসজিদ ভেঙে ফেলার অভিযোগ তুলে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, মসজিদটি ধ্বংস করা হয়নি; বরং মাছঘাট স্থানান্তরের কারণে মসজিদটিকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। নতুন স্থানে বর্তমানে নিয়মিত জামাতে নামাজ আদায় করা হচ্ছে।

‎সরেজমিনে আরও দেখা যায়, পূর্বের স্থানে মসজিদের কিছু ভাঙা ফ্লোরের অংশ পড়ে রয়েছে, যা স্থানান্তর কার্যক্রমের অংশ হিসেবে অবশিষ্ট রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এটিকে কেন্দ্র করেই বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।

‎এলাকাবাসী জানান, বাতিরখাল মাছঘাটকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা মসজিদটি অতীতেও কয়েকবার ঘাটের অবস্থান পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে স্থানান্তর করা হয়েছে। সম্প্রতি মাছঘাট পূর্বের স্থান থেকে কিছুটা দূরে সরিয়ে নেওয়া হলে মসজিদটিও নতুন স্থানে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে সেখানে নিয়মিত নামাজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

‎স্থানীয়দের মতে, মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তারা অভিযোগ করেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে এলাকার মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা হয়েছে এবং এলাকার সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে। তারা এ ধরনের ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচারের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

‎এ বিষয়ে চর কালকিনি ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এবং বাতিরখাল ঘাট মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবদুল মজিদ বলেন, আমার বিরুদ্ধে মসজিদ ভাঙার যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। মসজিদটি আমাদের উদ্যোগেই নির্মিত হয়েছে। আমরা কেন সেটি ভেঙে ফেলব? মাছঘাট স্থানান্তর হওয়ায় মসজিদটিকেও নতুন স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সেখানে নিয়মিত জামাতে নামাজ আদায় হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, যে কেউ সরেজমিনে গেলে বিষয়টি দেখতে পারবেন। মসজিদ ধ্বংসের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। একটি মহল পরিকল্পিতভাবে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে।

‎স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত তথ্য যাচাই করে দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশন করা উচিত, যাতে অযথা বিভ্রান্তি ও জনমনে ভুল ধারণার সৃষ্টি না হয়।

Add a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Advertisement