কমলনগর প্রেসক্লাবের নির্বাচনভোট পুনর্গণনাসহ শিক্ষা সনদ না থাকা প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রার্থিতা বাতিলের দাবিতে কমিশনকে উকিল নোটিশ।

নিজস্ব প্রতিবেদক:

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন ঘিরে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এ নির্বাচনের সাধারণ সম্পাদক পদের ভোট গণনা নিয়ে অনিয়ম ও গঠনতন্ত্র লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার মো.জামাল উদ্দিন তালুকদারের কাছে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

Advertisement

সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মো. ইব্রাহিমের পক্ষে লক্ষ্মীপুর জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনির হোসেন হাওলাদার এ নোটিশ পাঠান। ইব্রাহিম দৈনিক আজকের পত্রিকার কমলনগর উপজেলার প্রতিনিধি।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য গঠনতন্ত্রে এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার শর্ত থাকলেও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মো.ফয়েজের সেই সনদ নেই। শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টি যাচাই ছাড়াই কমিশন তাকে বৈধ প্রার্থী ঘোষণা করেন।

আরো উল্লেখ করা হয়, গত ২২ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থী সমান ভোট পাওয়ায় নির্বাচন কমিশন ২৫ জুন পুনর্নির্বাচনের উদ্যোগ নেয়।
পুনরায় ভোটগ্রহণ শেষে গণনাকালে একটি ব্যালট পেপারে মো. ইব্রাহিমের নির্ধারিত ঘরে ভোট প্রদানের সিল(টিক চিহ্ন) দুটি থাকায় নির্বাচন কমিশন সেটিকে বাতিল ঘোষণা করে। তবে টিক চিহ্নটি অন্য কোনো প্রার্থীর ঘর স্পর্শ করেনি এবং প্রেসক্লাবের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ওই ব্যালট বাতিলের সুযোগ নেই। ফলে প্রার্থী মো.ইব্রাহীম ১ ভোটে এগিয়ে থাকা সত্ত্বেও তার বৈধ ভোটটি বাতিল করায় নির্বাচনের ফলাফল পরিবর্তিত হয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে।
লিগ্যাল নোটিশে প্রেসক্লাবের গঠনতন্ত্রের অনুচ্ছেদ ১১(১০) ক-ঘ দফার ব্যাখ্যা তুলে ধরে বলা হয়, ব্যালটে সিল না থাকা বা বিশেষ চিহ্ন থাকলে তা বাতিল হবে, কিন্তু নির্ধারিত ঘরে একাধিক টিক চিহ্ন পড়লে ভোট বাতিলের কোনো বিধান নেই।
এছাড়া গঠনতন্ত্রের অনুচ্ছেদ ৬(ণ) ও ৯(৫)(চ) ধারা উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে গঠনতন্ত্রের বাইরে গিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের অভিযোগ আনা হয়েছে।

নোটিশে আগামী সাত দিনের মধ্যে নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যালট পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে নোটিশ প্রদানকারী সাংবাদিক মো.ইব্রাহীম বলেন, ১ম দফার নির্বাচনে ২৬ ভোটের মধ্যে আমরা ২ প্রার্থী ১৩-১৩ সমান ভোট পাই। ২য় দফার নির্বাচনে আমি ১৪ ভোট এবং প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থী ১২ টি ভোট পায়।কিন্তু কারসাজি করে আমার ২ টি ভোট বাতিল করে নির্বাচন কমিশন। আমি ন্যায়বিচারের জন্য আদালতের শরণাপন্ন হলাম।
এছাড়াও গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আমার প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থী ফয়েজের প্রার্থী হওয়ার মতো শিক্ষা সনদ নাই বলেও জানান তিনি।

প্রার্থীর আইনজীবী এডভোকেট মনির হোসেন লিগ্যাল নোটিশের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না পেলে বিষয়টি নিয়ে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার মো.জামাল উদ্দিন তালুকদার বলেন, নির্বাচন পরিচালনার জন্য ক্লাবের পক্ষ থেকে কমিশনকে গঠনতন্ত্র সরবরাহ করা হয়নি।যে কারণে এমনটি হয়েছে। আমি এখন ঢাকায় অবস্থানের কারণে লিগ্যাল নোটিশ এখনো পাইনি। এলাকায় এসে কমিশনের অন্য সদস্যদের নিয়ে আলোচনা করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

Add a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Advertisement