কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে সেফটিক ট্যাংক ছিদ্র করে বসতঘরের সামনে ময়লা ফেলার প্রতিবাদ করায় মা ও ছেলেকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে চাচা ও তার ছেলেদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত মা ও ছেলেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করা হয়েছে।তবে মায়ের অবস্থা বেশী গুরুতর হওয়ায় তাকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় রবিবার(৩০ আগষ্ট) দুপুরে লক্ষ্মীপুর আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে কমলনগর থানাকে নথিভুক্ত করার আদেশ দেন।
এর আগে শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের হাবিবুল্লাহ বেপারি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন,ওই বাড়ির আলী আজমের স্ত্রী আফিয়া খাতুন (৫৫) ও ছেলে মো. মাইন উদ্দিন সুমন (৩৭)। তাদের মধ্যে আফিয়া খাতুনের মাথায় গুরুতর জখম ও হাতের একটি আঙুল ভেঙে গেছে। মাইন উদ্দিনের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান স্বজনরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলী হায়দার ও আলী আজম আপন ভাই এবং একই বাড়িতে পাশাপাশি বসবাস করেন। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনার দিন দুপুরে সেফটিক ট্যাংকের ময়লা বসতঘরের সামনে বের করে দেওয়ার বিষয়টি মাইন উদ্দিন সুমন মোবাইল ফোনে ভিডিও করে প্রতিবাদ জানান। এ সময় আলী হায়দার, তার ছেলে জায়েদুল হায়দার, রাশেদ এবং তাদের বন্ধু সুমন উদ্দিন শুভ তার ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এসময় ছেলেকে বাঁচাতে মা আফিয়া খাতুন এগিয়ে আসলে তাকেও কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করা হয়। এতে মা ও ছেলে গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন। সেখানে আফিয়া খাতুনের অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মাইন উদ্দিন সুমন ও তার স্বজনরা জানান, একই বাড়ির বাসিন্দা আলী হায়দার তার টয়লেটের সেফটিক ট্যাংক ছিদ্র করে ময়লা তাদের বসতঘরের সামনে বের করে দেন। ওই স্থানটির পাশেই আলী আজমের পরিবারের ব্যবহৃত পুকুর, টিউবওয়েল ও রান্নাঘর রয়েছে। বৃষ্টির পানিতে ময়লা এসব স্থানে ছড়িয়ে পড়লে পরিবেশ ও ব্যবহার করা পানির ক্ষতি হতে পারে,এমন আপত্তি জানান আলী আজমের ছেলে মাইন উদ্দিন সুমন। এতেই তারা মাইন উদ্দিনের ওপর হামলা করেন।
অভিযুক্ত আলী হায়দারের নাম্বারে এ বিষয় জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
কমলনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.ফরিদুল আলম জানান, খবর শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে বলা হয়েছে।পরবর্তীতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।