নিজস্ব প্রতিবেদক :লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেছেন,”এদেশে ইয়াবার ডিলারও এমপি হয়েছে,,“আমরা বড় হচ্ছি, জজ-ব্যারিস্টার, ডিসি, এসপি ও সচিব হচ্ছি। কিন্তু আমরা নৈতিকভাবে দিনদিন গরিব হয়ে যাচ্ছি। এখানেই বাংলাদেশের সমস্যা।”
বুধবার সেপ্টেম্বর) লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার রামদয়াল বাজার আবদুল হাদী কলেজ অডিটোরিয়ামে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সম্মানে আয়োজিত কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
হুইপ নিজান বলেন, “এ সমাজে ধনী লোকের কদর বেশি। সে কি ঘুষ খায়? না ডাকাতি করে? না ইয়াবার ডিলার? এদেশে ইয়াবার ডিলারও এমপি হয়েছে—ওই যে কক্সবাজারের টেকনাফের বদি।”
ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “আমরা মুসলমানরা, মসজিদের ইমাম সাহেবরা এসব খারাপ লোক মসজিদে গেলে তাদের জায়নামাজ পর্যন্ত এগিয়ে দিই। কারণ তার টাকা আছে, ক্ষমতাও আছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা হৃদয়ে আল্লাহ ও আল্লাহর রাসুলকে ধারণ করার পর আমাদের যা করা উচিত, আমরা তা করি না। ধর্মকে সঠিকভাবে পালন না করলে আমরা নৈতিক হব কীভাবে?”
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে হুইপ নিজান বলেন, স্কুলের শিক্ষক, মাদরাসার প্রধান শিক্ষক ও কলেজের প্রিন্সিপালদের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। অথচ তারাই শিক্ষার্থীদের আদর্শ হওয়ার কথা।
তিনি বলেন, “একসময় আমাদের শিক্ষকরা আমাদের বেত দিতেন। এখন তো ধমক দিলেই আপনারা মিছিল করে ফেলবেন। আমরা বড় হচ্ছি, জজ-ব্যারিস্টার, ডিসি, এসপি ও সচিব হচ্ছি। কিন্তু আমরা নৈতিকভাবে দিনদিন গরিব হয়ে যাচ্ছি। এখান থেকেই উত্তরণে আপনারাই পারবেন।”
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর ছাত্ররা গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়েছে। কিন্তু জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা এখনো পূরণ হয়নি। সরকারি দপ্তরে গিয়ে সাধারণ মানুষ যদি কাঙ্ক্ষিত সেবা না পায়, তাহলে শহীদদের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা পূরণ হবে না।
হুইপ নিজান বলেন, “এখন না পারলে আগামী ৫০ বছরেও পারব না। এমপি হবে অনেক, মন্ত্রী হবে অনেক; কিন্তু মানুষের মতো মানুষ হওয়া খুব কঠিন ব্যাপার। এর জন্য ছাত্র, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। দায়িত্ব নিতে হবে। না হলে দেশের পরিবর্তন হবে না।”
তিনি আরও বলেন, “আপনাদের আওয়াজ তুলতে হবে, কথা বলতে হবে। আমি দুর্নীতি করব না, কাউকে করতেও দেব না। দেখবেন, তখন সুন্দর বাংলাদেশ কায়েম হবে।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ডা. জামাল উদ্দিন, রামগতি পৌরসভার সাবেক মেয়র সাহেদ আলী পটু, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজ উদ্দিনসহ শিক্ষক, অভিভাবক ও বিভিন্ন পেশার নেতৃবৃন্দ।