ভয়ংকর চায়না দুয়ারী জালে,দেশীয় প্রজাতির মাছ সহ জীববৈচিত্র্য অস্তিত্ব সংকটে।


নিজস্ব প্রতিবেদক :লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় চায়না দুয়ারী নামে এক ভয়ংকর জাল ছড়িয়ে পড়েছে।সর জামিনে গিয়ে দেখা যায় চর মার্টিন ইউনিয়ন ৭ নং ওয়ার্ডে ৪০০ মিটার জায়গায় ৪০থেকে ৫০ টি চায়না দুয়ারি জাল পাতা হয়েছে। লোহার রিংয়ের সাথে মিহি সুতো দিয়ে ঘন ঘন গিটে তৈরি মাছ শিকারের ম্যাজিক যার নাম চাইনা দুয়ারি। জীববৈচিত্র্য ধ্বংসে ভয়ানক ফাঁদিই হল চায়না দুয়ারি জাল। যাহা মাছ শিকারের জন্য হলেও তাতে আটকা পড়ে মারা যায় শামুক-ঝিনুক, ব্যাঙ, কাঁকড়া, সাপ, মাছরাঙা পাখি, কুচিয়াসহ বহু জলজ প্রাণী। ফলে মিঠা পানির মাছসহ ভয়াবহ সঙ্কটে পড়েছে জলজ জীববৈচিত্র্য।কারেন্ট জালের চেয়েও বিপজ্জনক চায়না দুয়ারি জাল। এটা পানির অনেক নিছে পাতা হয়। যাতে একবার মাছ ঢুকলে আর বের হতে পারে না।দুয়ারি ছোট ফাঁসবিশিষ্ট, যা কপাটের মতো কাজ করে। এই চাইনা দুয়ারি জালের কারণে একসময় দেশীয় উপজাতির কোন মাছই থাকবে না। এতে মাছসহ যেকোনো জলজ প্রাণী একবার ঢুকে পড়লে জালের মুখ বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে কম পরিশ্রমে বেশি মাছ শিকার করা যায়।
দেশে প্রচলিত আইন অনুযায়ী সাড়ে চার সেন্টিমিটারের চেয়ে ছোট ফাঁসবিশিষ্ট জাল ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং তা ব্যবহার আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। চর মার্টিন ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য তারেক রহমান রকি জানান,এ জাল জলজ জীববৈচিত্র্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ মন্তব্য করে তিনি আরোও বলেন, মূলত সমস্যাটি হলো এতে মাছ, মাছের বাচ্চা বা পোনা এবং এমনকি মাছের ডিমও উঠে আসে। এতে অনেক বিপন্ন প্রজাতির মাছ ও জলজ প্রাণী মারা যায়।সেগুলো আর ওই সব প্রাণীর বংশবৃদ্ধিতে কোনো ভূমিকা রাখতে পারে না। ফলে পানিতে থাকা জীববৈচিত্র্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
চর কালকিনি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ আজকের পত্রিকা কে জানান, জলাধারগুলোতে নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধের পাশাপাশি তা ব্যবহারের সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনলে এর ব্যবহার কমবে এবং দেশের সম্পদ রক্ষা হবে।
কমলনগর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা তূর্য সাহা জানান,চাইনা দুয়ারী জাল পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে, জনসাধারণকে এই জাল ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করছি, পাশাপাশি এই জাল ধ্বংস করতে উপজেলা প্রশাসনকে নিয়ে অভিযান অব্যাহত রাখবো।

Advertisement