আইনের মধ্যে থেকে হয়রানিমুক্ত ভূমিসেবা দেওয়ার চেষ্টা করেছি: আরাফাত হুসাইন
নিজস্ব প্রতিবেদক :
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় দীর্ঘ সাড়ে ১৮ মাসের কর্মজীবনের ইতি টেনেছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মদ আরাফাত হুসাইন। পদোন্নতিজনিত কারণে গত সপ্তাহে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের মধ্য দিয়ে কমলনগরে তাঁর দায়িত্ব পালনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। নতুন কর্মস্থল হিসেবে তিনি লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সিনিয়র সহকারী কমিশনার পদে যোগ দিয়েছেন।
কমলনগরে দায়িত্ব পালনকালে আইনের মধ্যে থেকে হয়রানিমুক্ত ভূমিসেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছেন বলে জানিয়েছেন মুহাম্মদ আরাফাত হুসাইন। অর্থের বিনিময়ে ‘প্যাকেজ নামজারি’ বন্ধ করা, মূল কাগজপত্র ও বাদীর উপস্থিতি ছাড়া নামজারি না করা এবং নিয়মিত মিসকেসের শুনানির মাধ্যমে ভূমিসেবার জটিলতা কমানোর উদ্যোগ নেন তিনি।
এ ছাড়া ভূমিসংক্রান্ত বিভিন্ন মামলার শুনানি নিয়ে খতিয়ান সংশোধন ও বাতিলের মতো বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। ভূমিসেবা নিতে সরকারি নির্ধারিত খরচের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়েছে কি না, তা জানতে সেবাগ্রহীতাদের সরাসরি জিজ্ঞাসা করতেন তিনি। এ ধরনের অর্থ লেনদেনের অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে জানান তিনি।
বিদায়বেলায় নিজের কর্মকাল নিয়ে দেওয়া এক বক্তব্যে আরাফাত হুসাইন বলেন, ভূমিসংক্রান্ত এসব কার্যক্রম পুরোপুরি বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ। ফলে সব পক্ষের মন রক্ষা করা সব সময় সম্ভব হয়নি। তাঁর কর্মকালীন সাফল্য ও ব্যর্থতার মূল্যায়নের ভার কমলনগরবাসীর ওপর ছেড়ে দিয়েছেন তিনি।
দায়িত্ব পালনকালে ভূমিসেবা সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন এই কর্মকর্তা। বিভিন্ন সময়ে সেবাগ্রহীতা ও বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে বিনামূল্যে ভূমিসংক্রান্ত জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে জানান তিনি। তাঁর মতে, সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রকৃত ভূমিজ্ঞান ও ভূমিসচেতনতা তৈরি হলে সঠিক ও হয়রানিমুক্ত ভূমিসেবা পাওয়া আরও সহজ হবে।
বিদায়বার্তায় কমলনগরবাসীর প্রতি শুভকামনা জানিয়ে মুহাম্মদ আরাফাত হুসাইন বলেন, তাঁদের প্রার্থনায় যেন তাঁর ও তাঁর পরিবারের জন্য ছোট্ট একটি জায়গা থাকে—এর বেশি কিছু চাওয়ার নেই।
সাড়ে ১৮ মাসের দায়িত্ব পালন শেষে নতুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়া এই কর্মকর্তার বিদায়বার্তায় ভূমিসেবার স্বচ্ছতা, জনসচেতনতা ও হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টার বিষয়গুলো উঠে এসেছে।