নিজস্ব প্রতিবেদক:
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে এক নারীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা, মারধর ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে নোমান (৩২) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গত রোববার (৪ অক্টোবর ২০২৬) লক্ষ্মীপুরের বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করেন দক্ষিণ চর মার্টিন এলাকার বিবি ফাতেমা (২৭)। মামলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০২৫)-এর ৯(৪)(খ) ধারাসহ দণ্ডবিধির ৩২৩/৩২৪/৩০৭/৫০৬(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ফাতেমার স্বামী মারা যাওয়ার পর তিনি বাবার বাড়িতে বসবাস করে আসছেন। এ সময় আসামি নোমান তাকে বিভিন্ন সময়ে রাস্তাঘাটে একা পেয়ে অশালীন প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানানো হলে তারা আসামিকে সতর্ক করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আসামি পুনরায় তাকে কুপ্রস্তাব দেন বলে অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর বুধবার সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে পাশের বাড়ি থেকে ফেরার সময় আসামি ফাতেমাকে টেনে-হিঁচড়ে বাড়ির যাতায়াতের রাস্তার পাশের নারিকেল-সুপারি বাগানের ভেতরে নিয়ে যান। সেখানে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণের চেষ্টা এবং পরনের কাপড় ছিঁড়ে ফেলার পাশাপাশি শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
ফাতেমা বাধা দিয়ে ধস্তাধস্তি করে আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে আসামি গাছের শক্ত লাঠি দিয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এতে তার বাম হাতের বাহু ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। দ্বিতীয় দফায় আঘাতে কোমর/পাছার অংশে গুরুতর জখম ও হাড়ে আঘাতের কথাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন বলে মামলার এজাহারে বলা হয়েছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত ফাতেমাকে কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। অভিযোগপত্রে তার ভর্তি রেজিস্ট্রেশন নম্বর ২৫৬০/৮ এবং ভর্তির তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার পর আসামি আইনগত ব্যবস্থা নিলে ফাতেমাকে হত্যার হুমকি দেন। একই সঙ্গে তার সন্তান সৌরভকে স্কুলে যাতায়াতের সময় একা পেলে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
ফাতেমার দাবি, তিনি কমলনগর থানায় এজাহার দিতে গেলে পুলিশ মামলা না নিয়ে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়। পরে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।
মামলায় সুরমা, মহিন ও ছকিনাকে সাক্ষী করা হয়েছে। বাদীপক্ষ অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের পাশাপাশি আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন জানিয়েছে।
তবে মামলায় আনা অভিযোগের বিষয়ে আসামি নোমানের বক্তব্যবে নোমান জানান, আনিত সকল অভিযোগ মিথ্যা, মারামারি মহিলারা করেছে।
বাদীর আইনজীবী মো:ইস্রাফিল জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করেছি আদালত আমাদের অভিযোগ আমলে নিয়ে,কমলনগর থানা কে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তদন্তপূর্বক তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আদেশ দিয়েছেন।
কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল আলম জানান,আমরা মহামান্য আদালতের আদেশের কপি হাতে পেয়েছি। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মামলাটি যথাযথ গুরুত্বের সাথে অনন্তপূর্বক তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।