দিশাহারা ইতালিকে পথে ফেরাতে গার্দিওলাকে চান বোনুচ্চি

টানা তিনবার বিশ্বকাপে নেই ইতালি। ভাবা যায়! ২০১৪ সালের পর বিশ্বমঞ্চে আজ্জুরিদের নীল জার্সি আর দেখা যায়নি। সর্বশেষ প্লে-অফ ফাইনালে বসনিয়া-হার্জেগোভিনার কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে চারবারের বিশ্বজয়ীদের। ব্যর্থতার দায় নিয়ে কোচের পদ ছেড়েছেন জেনারো গাত্তুসো। এখন প্রশ্ন একটাই—দিশাহীন এই ইতালিকে পথ দেখাবেন কে?

ইতালির সাবেক ডিফেন্ডার লিওনার্দো বোনুচ্চি একটা সমাধান দেখছেন। গাত্তুসো জমানায় তিনি কোচের সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকে বোনুচ্চির অনুধাবন, ইতালির ফুটবলে আমূল পরিবর্তনের জন্য এখন ডাগআউটে একজন জাদুকর প্রয়োজন। তাঁর মতে, সেই জাদুকরের নাম পেপ গার্দিওলা!

ইতালি কেন বারবার বিশ্বকাপে উঠতে ব্যর্থ হচ্ছে? সম্প্রতি স্কাই স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জুভেন্টাসের এই কিংবদন্তি ডিফেন্ডার বলেছেন, ‘আমরা যদি জাতীয় দলে আমূল পরিবর্তন চাই, তবে পেপ গার্দিওলাই হবেন এই কাজের জন্য যোগ্য লোক। কাজটা কঠিন, তবে স্বপ্ন দেখতে তো পয়সা লাগে না!’

Advertisement

ম্যানচেস্টার সিটি কোচ পেপ গার্দিওলাম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে গার্দিওলার চুক্তি আছে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত। তবে প্রিমিয়ার লিগ ছেড়ে কোনো এক সময় জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার ইচ্ছা গার্দিওলা আগেই প্রকাশ করেছিলেন। সেই সুযোগটাই নিতে চান বোনুচ্চি। অবশ্য সংবাদমাধ্যমে আন্তোনিও কন্তে বা মাসিমিলিয়ানো আল্লেগ্রির নামও আসছে। তবে বোনুচ্চির মন মজেছে পেপ-তত্ত্বে। তাঁর মতে, ইতালিয়ান ফুটবলের নতুন অধ্যায় শুরুর জন্য গার্দিওলাই সেরা কোচ।

২০০৬ সালে বিশ্বজয়ের পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আর পা রাখা হয়নি ইতালির। গত দুই আসরের মতো এবারও গ্যালারিতে বসে খেলা দেখতে হবে আজ্জুরি সমর্থকদের। ইতিহাসের প্রথম সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে টানা তিনটি বিশ্বকাপ মিস করার লজ্জার রেকর্ড এখন ইতালির। মাঝখানে ইউরো ২০২০ জয় যেন শুধু একপশলা বৃষ্টির মতো এসেছিল, যা দীর্ঘ খরা কাটাতে পারেনি।

লিওনার্দো বোনুচ্চিবোনুচ্চি মনে করেন, এখন জোড়াতালি দিয়ে চলার সময় শেষ। কারণ, ক্ষত যখন গভীর হয়, তখন ব্যান্ডেজ নয়, অস্ত্রোপচারই শ্রেয়। তাই বোনুচ্চির কথা, ‘বিশ্বের কাছে হারানো সম্মান ফিরে পেতে আমাদের সাহসের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। ইতালিয়ান ফুটবলকে একদম শূন্য থেকে আবার গড়তে হবে, শুরুটা হতে হবে রক্ষণভাগ থেকে।’

শুধু কোচ বদল করলেই কি সব ঠিক হয়ে যাবে? বোনুচ্চি তেমনটা মনে করেন না। তিনি মনে করেন, রাজনীতি আর ফুটবলের মেলবন্ধন জরুরি। তরুণ প্রতিভাদের বিকশিত হওয়ার সুযোগ দিতে হবে। রাতারাতি কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয়। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘একমাত্র ওষুধ হলো সময়।’

ইতালি বিশ্বকাপ খেলতে না পারায় মন খারাপ আর্জেন্টিনা কোচের

Add a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Advertisement