নিজস্ব প্রতিবেদক: লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরাফাত হুসাইনকে জড়িয়ে একটি অনলাইন মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনকে ‘মিথ্যা’ ও বিভ্রান্তিকর দাবি করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে নামজারি সংক্রান্ত বিরোধ, ভূমি অফিসে ‘মব’ এবং ঘুষের অভিযোগ নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন এই কর্মকর্তা।
গত ১২ সেপ্টেম্বর রাত প্রায় ১২টার দিকে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয় বলে জানান এসিল্যান্ড আরাফাত হুসাইন। তার দাবি, প্রতিবেদনে যে ঘটনার কথা বলা হয়েছে, সেটি ঘটেছে ১০ সেপ্টেম্বর। ঘটনার দুই দিন পর গভীর রাতে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
যে নামজারি নিয়ে বিরোধ, সেটি করেননি বর্তমান এসিল্যান্ড
আরাফাত হুসাইনের দাবি, যে নামজারি বাতিলের জন্য বাদী পক্ষ মামলা করেছেন, সেটি তার দায়িত্বকালে করা হয়নি। বরং পূর্ববর্তী সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওই নামজারি সম্পন্ন করেছিলেন।
তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট নামজারিটি ১৯৯৬ সালের ১ অক্টোবরের ৫৪৪১ নম্বর দলিলের ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়। দলিলে দুটি দাগ উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে একটি দাগের মালিক না হয়েও দাতা জমি বিক্রি করেছেন বলে দাবি করেন তিনি। এ কারণে তৎকালীন এসিল্যান্ড এক দাগে বিক্রিত জমির নামজারি দেন।
তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট দলিলের দাতা ও গ্রহীতা এখনো জীবিত। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দলিল সংশোধন না করা হলে বাদী পক্ষের পক্ষে মামলায় কাঙ্ক্ষিত রায় পাওয়া কঠিন হতে পারে।
‘মব করে রায় আদায়ের সুযোগ নেই’
নামজারি কিংবা নামজারি বাতিলের বিষয়টি পুরোপুরি আইনি প্রক্রিয়ার অংশ উল্লেখ করে এসিল্যান্ড বলেন, কোনো পক্ষের পক্ষে দলবদ্ধভাবে চাপ সৃষ্টি করে রায় আদায়ের সুযোগ নেই।
কোনো রায়ে অসন্তুষ্ট হলে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে আইন অনুযায়ী আপিল করতে হবে—এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, আদালত বা ভূমি অফিসে মব সৃষ্টি করে কোনো সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।
তার ভাষায়, একটি মামলায় বাদী ও বিবাদী—দুই পক্ষই থাকে। কোনো পক্ষ মামলায় পরাজিত হলে তার কাছে বিচারকের সিদ্ধান্ত অন্যায় মনে হতে পারে। তবে এর প্রতিকার মব নয়; বরং আইনি প্রক্রিয়ায় আপিল করাই সঠিক পথ।
ঘুষের অভিযোগ প্রমাণে ‘চাকরি ছেড়ে দেওয়ার’ চ্যালেঞ্জ
কমলনগর উপজেলা ভূমি অফিস নিয়ে বিভিন্ন সময় নানা অভিযোগ ও বদনাম থাকলেও নিজের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন আরাফাত হুসাইন।
তিনি দাবি করেন, এসিল্যান্ড হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে কোনো নামজারি, মিসকেস বা ভূমি সংক্রান্ত অন্য কোনো বিষয়ে তিনি এক পয়সাও ঘুষ নেননি। ভবিষ্যতেও ঘুষ নেবেন না বলে দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন তিনি।
এমনকি তার কাছ থেকে কেউ টাকা নিয়েছেন কিংবা তিনি ঘুষ দাবি করেছেন—এমন সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দিতে পারলে চাকরি ছেড়ে দেওয়ার চ্যালেঞ্জও দিয়েছেন এই কর্মকর্তা।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি
অফিসের প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারী যে শতভাগ সৎ—এমন দাবি করেননি এসিল্যান্ড। তবে কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে দায়িত্ব অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযোগের ভিত্তিতে আইডি বন্ধ, বেতন বন্ধ, শোকজ, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো এবং বদলির উদ্যোগ নেওয়ার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
‘মবের দিন শেষ, এখন জাস্টিসের দিন শুরু’
পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন সংবাদে একপাক্ষিক বক্তব্য প্রচারের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ও নথিপত্র যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
বক্তব্যের শেষদিকে আরাফাত হুসাইন বলেন, “মবের দিন শেষ, এখন জাস্টিসের দিন শুরু হয়ে গেছে।”
তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মামলার বাদী-বিবাদী পক্ষ এবং যে অনলাইন মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে, তাদের বক্তব্য এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা-ও গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।