নতুন করে ইটভাটা স্থাপনের অনুমতি না দেওয়ার বিষয়ে রুল জারি, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় আইনি পদক্ষেপ
লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগর উপজেলায় গড়ে ওঠা সব অননুমোদিত ও অবৈধ ইটভাটা বন্ধ ও উচ্ছেদের বিষয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে বিদ্যমান আইন লঙ্ঘন করে এ দুই উপজেলায় নতুন করে কোনো ইটভাটা স্থাপনের অনুমতি না দেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন আদালত।
গত ১৫ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ জনস্বার্থে দায়ের করা ১৬৪৫/২০২৬ নম্বর রিট পিটিশনের প্রাথমিক শুনানি শেষে এ রুল জারি করেন।
আদালত রামগতি ও কমলনগর উপজেলায় অনুমোদনহীনভাবে পরিচালিত অবৈধ ইটভাটাগুলো অবিলম্বে ধ্বংস বা উচ্ছেদের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়েছেন। পাশাপাশি আইন লঙ্ঘন করে নতুন ইটভাটা স্থাপনের অনুমতি না দেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়েছে।
রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়, অনুমোদনহীন ইটভাটা পরিচালনার মাধ্যমে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯)-এর বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘিত হচ্ছে। এসব অবৈধ ইটভাটা পরিবেশের ভারসাম্য, কৃষিজমি ও জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। এ পরিস্থিতিতে সংবিধানের ২৭, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে নিশ্চিত করা নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষায় আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
রামগতি উপজেলার চরলক্ষ্মী গ্রামের বাসিন্দা মো. আশরাফুল আলম হান্নান পরিবেশ রক্ষা ও আইনি পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে জনস্বার্থে এ রিট দায়ের করেন। মামলায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে প্রধান বিবাদী করা হয়েছে।
এ ছাড়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সচিব, ভূমি সচিব, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সচিব, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, প্রধান বন সংরক্ষক, লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক, রামগতি ও কমলনগর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এবং দুই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১৫ জন প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে বিবাদী করা হয়েছে।
রিট আবেদনকারীর পক্ষে আদালতে আইনি লড়াই পরিচালনা করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জামিলা মমতাজ ও তাঁর সহযোগী আইন কর্মকর্তারা।
আদালতের এ রুলের ফলে রামগতি ও কমলনগরের অবৈধ ইটভাটা পরিচালনা এবং নতুন ইটভাটা স্থাপনের অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবস্থান ও আইনগত পদক্ষেপের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে সামনে এসেছে। তবে রুল জারি হওয়া চূড়ান্ত রায় নয়; সংশ্লিষ্টদের জবাব ও পরবর্তী শুনানির ভিত্তিতে আদালত এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।